আদানির বিদ্যুৎচুক্তি: লুটের অঙ্ক, নতজানু রাজনীতি ও বঞ্চিত জনগণের দীর্ঘশ্বাস”
Mousumi Nargis lucky |
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫২
ফারূক মাহমূদ
গণমাধ্যম কর্মী।
গত সরকারের আমলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ছিলো ভয়ানক। তাতে বলা আছে, ভারতের অভ্যন্তরিণ কারনে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হলে তার দায় নিতে হবে বাংলাদেশকে।
চুক্তির সময় ভারতে বিদ্যুতের দাম ছিলো প্রতি ইউনিট ৪.৪৬ সেন্ট। ঠিক সেইসময় বাংলাদেশ আদানির কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনে ৮.৬১ সেন্ট দিয়ে। প্রায় দ্বিগুণ দামে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করা হয়।
প্রতি বছর চুক্তির মাশুল গুনতে হচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি ডলার। যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
২৫ বছরে ভারতীয় আদানি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে লুটে নেবে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার ।
এবার এক হাজার কোটি ডলারকে টাকায় রূপান্তর করে হিসেবটা মিলিয়ে নিন।
আরেকভাবে হিসাব মেলান। কেবল আদানির সাথে এই নতজানু চুক্তির মাশুল গুনতে কতো প্রবাসী শ্রমিকের কতোটা ঘাম ঝরাতে হবে?
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রমে-ঘামে অর্জিত টাকাগুলো কিভাবে লোপাট হবে।
আর রাজনীতির ধূর্ত সাধকেরা কিভাবে কথার ফুলঝুরি দিয়ে জনগণকে খরচের চক্রে ফেলে নিজেরা ট্যাক্সমুক্ত গাড়িতে চড়ে।
তারপরও আমরা বোকা বাঙালী নেতাদের পেছনে লাইন ধরে দুয়োধ্বনি দেই।
কতোটা কপালপোড়া বেকুব জনগণ হলে বিদ্রোহের পরিবর্তে নেতাদের পদসেবা দিতে ব্যকুল হয়?
অজ্ঞাত মনে কেউ পরাধীনতার শৃঙ্খল পরলে তাকে শৃংখলা মুক্ত করে প্রকৃত মুক্তির স্বাদ উপহার দেওয়া বড্ড কঠিন।
আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠুন। আসুন সবাই দৃপ্ত শপথে কন্ঠ মেলায়। গায় জাগরণ গান। আর বজ্র কন্ঠে আওয়াজ তুলি বারেবার।