‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ আহত ১০
চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চাপাতির আঘাতে একজনের পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে। সন্ধ্যায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক শিবির কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি সিটি কলেজের অনার্সের ছাত্র মো. আশরাফ। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনিসহ বেশ কয়েকজনকে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন পায়ের গোড়ালি নিয়ে হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর পার্কভিও হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলন করেছে মহানগর ছাত্রশিবির।
দুপক্ষের সংঘর্ষের জেরে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষা স্থগিত হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ এবং মাস্টার্স কোর্সের পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতিতে নিচে লেখা ছিল ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস। পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী গিয়ে সেখানে ছাত্র শব্দটি মুছে দেয়। পরে সেখানে লেখা হয় ‘গুপ্ত’। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আইডিতে প্রচার করে আল মামুন। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়ায় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা।
এ সময় পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া ও পাল্টাধাওয়া। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকাল ৪টার দিকে আবার জড়ো হয় ছাত্রদল-শিবির কর্মীরা। কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে নিউমার্কেট মোড়ে এসে ছাত্রদল কর্মীরা মিছিল করেছে। সংঘর্ষের সময় অনেকের হাতে দেখা গেছে লাঠিসোটা, কিরিচ, চাপাতি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরে পুলিশ ও কলেজ শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ক্যাম্পাস এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিটি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিক রনি বলেন, কলেজে ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। সেখানে ছাত্র শব্দটি মুছে গুপ্ত লিখে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গালাগাল করে পোস্ট দিয়েছেন। সকালে তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালান। এতে আমাদের চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রশিবির (দক্ষিণ) প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় বলেন, চাপাতির আঘাতে আহত হয়েছেন আমাদের কর্মী মো. আশরাফ। তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ছাত্রদল কর্মীরা চাপাতি দিয়ে তাকে আঘাত করেছিল।
সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনায় শিক্ষকরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।