যেখানে ক্ষমতা বিচারকে গিলে খায়
ক্ষমতাবানদের অপরাধে কেন আইন অন্ধ হয়ে যায়!
Mousumi Nargis lucky |
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩০
সম্পাদকীয়
জেফ্রি এপস্টেইন কেস কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধের ইতিহাস নয়।
এটি আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার এক নগ্ন রাজনৈতিক দলিল—যেখানে আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই; নৈতিকতা আছে, কিন্তু শুধু বক্তৃতায়।
একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধী কীভাবে বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের ক্ষমতাকেন্দ্রে অবাধে বিচরণ করে?
কীভাবে তার ব্যক্তিগত জেটে, দ্বীপে ও বাসভবনে প্রভাবশালী রাজনীতিক, ধনকুবের ও ক্ষমতার প্রতীকরা যাতায়াত করেন—এবং তারপরও রাষ্ট্রযন্ত্র কার্যত নিশ্চুপ থাকে?
এই প্রশ্নের উত্তর ব্যক্তিগত নৈতিকতায় নয়, রাজনীতিতে।
এপস্টেইন কেস দেখিয়েছে—আইনের মুখ শক্তিশালীদের জন্য নরম, দুর্বলদের জন্য কঠিন।
যেসব নাম আদালতের নথি, ফ্লাইট লগ বা সাক্ষ্যে এসেছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই শেষ পর্যন্ত বিচার হয়নি। আইনি ভাষায় বলা হয়েছে—“অপরাধ প্রমাণিত নয়।”
কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রশ্ন রয়েই যায়:
প্রমাণের পথ কি ইচ্ছাকৃতভাবে সংকুচিত করা হয়েছিল?
এই কেসে সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয় হলো বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার বৈষম্য।
যদি এমন অভিযোগ কোনো দরিদ্র দেশ, কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কোনো অপ্রিয় আদর্শের সঙ্গে যুক্ত হতো—তবে নিষেধাজ্ঞা, বিবৃতি, মানবাধিকার রিপোর্ট আর শাস্তির হুমকিতে বিশ্ব সরব হতো।
কিন্তু অভিযুক্তদের একটি অংশ যখন পশ্চিমা ক্ষমতাবৃত্তের অন্তর্ভুক্ত, তখন সেই বিশ্ব হঠাৎ করেই “আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায়” চলে যায়।
এটি কাকতালীয় নয়—এটি ক্ষমতার রাজনীতি।
এপস্টেইনের কারাগারে মৃত্যু এই কেসের রাজনৈতিক ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রতীক। রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা একজন গুরুত্বপূর্ণ আসামির মৃত্যু মানে শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়—এটি বহু প্রশ্নের সমাধিস্থ হওয়া।
রাষ্ট্র যদি একজন অভিযুক্তকেও নিরাপদে বিচার পর্যন্ত রাখতে না পারে, তবে ভুক্তভোগীদের ন্যায়ের নিশ্চয়তা কোথায়?
কিন্তু এটি স্পষ্টভাবে বলছে—যেখানে ক্ষমতা তদন্তের গতি নির্ধারণ করে, সেখানে গণতন্ত্র একটি ভান মাত্র।
আজ যারা বিশ্বকে মানবাধিকার, নারী অধিকার ও নৈতিকতার পাঠ দেন, তাদেরই রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে যদি এমন নীরব অনৈতিকতা বাসা বাঁধে—তবে সেই পাঠের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যে নেমে আসে।
প্রশ্নটি তাই নৈতিক নয়: রাজনৈতিক—
আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা সংস্করণ আছে?
যদি এই প্রশ্নের সৎ উত্তর না আসে,
তবে এপস্টেইন কেস শেষ হবে না—
শুধু নাম বদলাবে,
আর ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়বে।
মৌসুমী নার্গিস নাকি