বেকারত্ব মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে কার্যকর সমাধান
Mousumi Nargis lucky |
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৭
সম্পাদকীয়
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিবছর লক্ষাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বের হলেও তাদের একটি বড় অংশ সময়মতো কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না। এই বাস্তবতায় বেকারত্ব সমস্যার টেকসই সমাধান হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
বর্তমান ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে ফ্রিল্যান্সিং কেবল একটি আয়ের উৎস নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। ছাত্রজীবনেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে একজন শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। নিজের পড়াশোনার খরচ নিজে বহন করার সক্ষমতা তৈরি হলে পরিবারে আর্থিক চাপও কমে আসে, যা সামাজিকভাবেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের আরেকটি বড় সুবিধা হলো দক্ষতা উন্নয়ন। গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং, কন্টেন্ট রাইটিং বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতাগুলো বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে শেখার সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মজীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে।
চাকরির বাজারে টিকে থাকার জন্য অভিজ্ঞতা এখন সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই একটি পোর্টফোলিও তৈরি করতে পারে, যা স্নাতক শেষ করার পর সাধারণ প্রার্থীদের তুলনায় তাদের এগিয়ে রাখে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফ্রিল্যান্সিংয়ের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে ভালো চাকরি বা নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার পথ খুলে দেয়।
এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিজের সুবিধামতো সময়ে কাজ করার সুযোগ থাকায় পড়াশোনা ও কাজ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বাস্তব অভ্যাস তৈরি হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করার ফলে ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাদার আচরণ এবং বৈশ্বিক কর্মসংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের পক্ষ থেকেও ইতোমধ্যে এ খাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (LEDP) এবং মুক্তপাঠের মতো প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের সুযোগ রয়েছে, যা কাজে লাগাতে পারলে শিক্ষার্থীরা সহজেই নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারে।
অতএব, বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিংমুখী করে তোলা জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং রাষ্ট্র—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে যদি ছাত্রজীবন থেকেই দক্ষতা ও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পথ তৈরি করা যায়, তবে তরুণ প্রজন্ম শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী শক্তিতে পরিণত হতে পারবে। এই পথই হতে পারে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার একটি কার্যকর হাতিয়ার।