রাষ্ট্রনীতিতে কেন এগিয়ে বিএনপি , ক্যাম্পাসে পিছিয়ে ছাত্রদল

Tanjir Khan Rony | প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২২
রাষ্ট্রনীতিতে কেন এগিয়ে বিএনপি , ক্যাম্পাসে পিছিয়ে ছাত্রদল


ডাঃ এ কে এম মাজহারুল ইসলাম খান


ঢাকসু থেকে শুরু করে রাকসু, চাকসু, জাকসু এবং সর্বশেষ জকসু—একটির পর একটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থীদের ভরাডুবি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি কেবল কয়েকটি নির্বাচনী পরাজয়ের হিসাবও নয়। বরং এটি ক্যাম্পাস রাজনীতির গভীরে জমে থাকা একটি দীর্ঘ সংকটের বহিঃপ্রকাশ। যেখানে সময়, সংগঠন, রাজনৈতিক ভাষা ও শিক্ষার্থীদের মানসিকতার সঙ্গে তাল মিলাতে ব্যর্থ হওয়ার মাশুল গুনতে হচ্ছে ছাত্রদলকে। এই পরাজয়কে যদি শুধুই ‘নির্বাচনী কারচুপি’, ‘প্রশাসনিক পক্ষপাত’ কিংবা ‘রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন’-এর একমাত্র ফল বলে ব্যাখ্যা করা হয়, তবে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হবে। কারণ প্রতিকূলতার মধ্যেও ইতিহাসে বহুবার ছাত্রদল জনসমর্থন আদায় করেছে। আজ যে ব্যর্থতা, তা মূলত নিজেদের ভেতরের প্রশ্নগুলোর উত্তর না খোঁজার ফল।



এই বাস্তবতা আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দেয় তখনই, যখন দেখা যায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রবল বলে আলোচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্নে যেখানে বিএনপি জনসমর্থনের পাল্লায় এগিয়ে, সেখানে একই দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে—এই দ্বৈত বাস্তবতা গভীর আত্মসমালোচনার দাবি রাখে।

প্রথম যে বাস্তবতা সামনে আসে, তা হলো দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। এই সময়টায় ছাত্র রাজনীতির মাঠে যারা নিয়মিত ছিল, তারা নিজেদের মতো করে নেটওয়ার্ক, সম্পর্ক ও প্রভাব তৈরি করেছে। অন্যদিকে ছাত্রদল ছিল কখনো দমন-পীড়নের শিকার, কখনো আত্মরক্ষামূলক রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ, আবার কখনো নিষ্ক্রিয়। এর ফলে একটি সম্পূর্ণ প্রজন্ম ছাত্রদলকে দেখেনি কর্মসূচির মাধ্যমে, দেখেনি আবাসিক হলের দৈনন্দিন সমস্যায় পাশে দাঁড়াতে, দেখেনি শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক জটিলতা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে। তারা ছাত্রদলকে চিনেছে মূলত অতীতের গল্পে, কিংবা জাতীয় রাজনীতির ভাষ্যে। ভোটের দিনে সেই দূরত্বটাই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংগঠনিক দুর্বলতা। ছাত্র সংসদ নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের লড়াই নয়; এটি ব্যবস্থাপনার, পরিকল্পনার এবং মাঠপর্যায়ের সংগঠনের পরীক্ষার লড়াই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ছাত্রদলের প্যানেল ঘোষণায় দেরি হয়েছে, প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় ছিল না, নির্বাচনী ইশতেহার ছিল অস্পষ্ট কিংবা সাধারণ শিক্ষার্থীর ভাষায় পৌঁছাতে ব্যর্থ। কোথাও কোথাও যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রধান মানদণ্ড হয়েছে। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রার্থীরা হয়ে উঠেছেন ‘দলীয় মুখ’, ‘ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি’ নয়। ছাত্র সংসদ যেখানে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন চাহিদা, সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিয়ে কথা বলার মঞ্চ, সেখানে দলীয় ভাষা ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই ভোটারদের বিমুখ করেছে।

মন্তব্য করুন

Login to comment

রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

Global Before Footer